প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে 'সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ফেয়ার ফ্যাশন: বিল্ডিং আ রেসপনসিবল ফ্যাশন ফিউচার' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে 'সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ফেয়ার ফ্যাশন: বিল্ডিং আ রেসপনসিবল ফ্যাশন ফিউচার' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার
টেকসই ও ন্যায্য ফ্যাশন চর্চা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, নৈতিক ব্যবসায়িক অনুশীলন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীল ফ্যাশন শিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ সম্প্রতি 'সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ফেয়ার ফ্যাশন: বিল্ডিং আ রেসপনসিবল ফ্যাশন ফিউচার' শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করেছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির। সভাপতিত্ব করেন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব কুহেলী চৌধুরী। সেমিনারটি সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করেন বিভাগের প্রভাষক সৈয়দা আতকিয়া ফাইজা। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ ও লন্ডনের টিসাইড ইউনিভার্সিটির সহযোগী প্রভাষক জনাব শেখ সাজেদুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির বলেন, বর্তমান বিশ্বে ফ্যাশন শিল্প কেবল নান্দনিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল উৎপাদন, নৈতিক শ্রমনীতি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের টেকসই ফ্যাশন বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করেন।
মূল প্রবন্ধে জনাব শেখ সাজেদুর রহমান টেকসই ফ্যাশনের ধারণা, বৈশ্বিক ফ্যাশন শিল্পে এর গুরুত্ব, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ফাস্ট ফ্যাশনের পরিবর্তে টেকসই ও ন্যায্য ফ্যাশন চর্চা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন। পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, ন্যায্য শ্রমনীতি এবং সার্কুলার ইকোনমির ধারণা গ্রহণের মাধ্যমে ফ্যাশন শিল্পকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক করে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের ফ্যাশন শিল্পে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভোক্তাদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীদের তিনি বৈশ্বিক মানসম্পন্ন জ্ঞান অর্জন, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং নৈতিক পেশাগত চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা টেকসই ফ্যাশন, ন্যায্য বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক তাদের প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর প্রদান করেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব কুহেলী চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেকসই ফ্যাশন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক সেমিনার, কর্মশালা এবং গবেষণাভিত্তিক একাডেমিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।