puc_logo

Premier University
Center Of Excellence For Quality Learning

puc_logo

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন উপলক্ষে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত ।

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন উপলক্ষে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত ।

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল থেকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক প্রোগ্রাম—ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), বি.এ. (অনার্স) ইন ইংলিশ, ব্যাচেলর অব লজ (এলএল.বি. অনার্স), বি.এস.এস. (অনার্স) ইন ইকোনমিক্স এবং বি.এসসি. ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই)—এর অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদপ্রাপ্তি উপলক্ষে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের মোহনা বলরুম (লেভেল-৪)-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিশেষ অতিথি এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার স্বাগত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির।
রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন একটি স্বীকৃতি। কিন্তু এই স্বীকৃতি পাওয়াটাই বড় কথা নয়, একে ধরে রাখাটাই বড় কথা। সুতরাং এ কারণে আমাদেরকে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। গত ১৬ বছরে শিক্ষার হাত বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়নি। শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই জায়গায় আমাদেরকে খুবই কঠোর হতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই দেশটাকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধিশালী ও স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে পারব না। তিনি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য স্বদেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করে। তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক প্রোগ্রামের অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রাপ্তিকে চট্টগ্রামবাসীর একটি বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সেই পথেই এগিয়ে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রোগ্রামও অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করবে এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্মানিত অতিথি প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে অ্যাক্রেডিটেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমাদের দেশে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে কয়েকবছর আগে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু একাডেমিক প্রোগ্রামকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করা হয়েছে। এটা এই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণতা। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বাংলাদেশে একমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়ই বেশি সংখ্যক স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক প্রোগ্রামের অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রাপ্ত হয়েছে। এটি খুবই আনন্দের ও গৌরবের। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা যখন উচ্চমানে থাকে, তার গুণগত মান যখন একটি বিশেষ পর্যায়ে থাকে, তখন তাকে যে-স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তা’ই অ্যাক্রেডিটেশন। তিনি অ্যাক্রেডিটেশনের সংজ্ঞা ও প্রক্রিয়া, অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য অনুসরণযোগ্য সরকারি নীতিমালা ও ফ্রেমওয়ার্ক এবং আউটকাম বেইসড কারিকুলাম প্রভৃতি বিষয় ব্যাখ্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামগুলো মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের একাডেমিক মান, পাঠক্রম, গবেষণা কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় এই অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতেও মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা যদি গ্লোবাল র‌্যাংকিং-এ ভালো করতে চাই, তাহলে এই অ্যাক্রেডিটেশন প্রয়োজন। তিনি বলেন, শিক্ষা হচ্ছে তা, যা আমাদের আলোকিত করে। আমরা দুর্নীতিতে প্রচণ্ডভাবে এগিয়ে রয়েছি। আমাদের দেশে মূল্যবোধের অবক্ষয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মানে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বেশ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা খুঁজে বের করে দূর করতে হবে। তিনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে ঢেলে সাজানো দরকার, সেই ব্যাপারেও কথা বলেন। তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অনেক চ্যালেঞ্জ ও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সবসময়ই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের কাছ থেকে পাঁচটি প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন লাভ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি এ সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও প্রোগ্রামকে অ্যাক্রেডিটেশনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রফেসর ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অনেক পরিশ্রম ও সাধনার পরে পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক প্রোগ্রামের অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পেয়েছে। সুতরাং আজকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অত্যন্ত আনন্দের দিন। এই অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামগুলোর শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক সভায় সনদগুলো বিতরণ করা হয়। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সনদগুলো গ্রহণ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এসসি. ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের অনুকূলে একটি কনফিডেন্স সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়।
অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট-এ চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ও বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাননীয় সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সহযোগী ডিন, সহকারী ডিন, একাডেমিক বিভাগগুলোর চেয়ারম্যান-কোঅর্ডিনেটর-শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তা ও অ্যালামনাইবৃন্দ।  

Related News

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘ভিজিট অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং পার্টিসিপ্যান্টস টু আ ফাংশনাল আইকিউএসি’ শীর্ষক ভিজিটিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত ।

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি বিভাগে ওরিয়েন্টেশন

Read More

UTS College Bangladesh – Premier University Joint Program March 2026 Intake Orientation.

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ।

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক ।

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত ১৫ মার্চ ২০২৬।

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন উপলক্ষে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত ।

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন উপলক্ষে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত ।

Saturday, 14 March, 2026

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন উপলক্ষে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত ।

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল থেকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক প্রোগ্রাম—ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), বি.এ. (অনার্স) ইন ইংলিশ, ব্যাচেলর অব লজ (এলএল.বি. অনার্স), বি.এস.এস. (অনার্স) ইন ইকোনমিক্স এবং বি.এসসি. ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই)—এর অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদপ্রাপ্তি উপলক্ষে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের মোহনা বলরুম (লেভেল-৪)-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিশেষ অতিথি এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার স্বাগত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির।
রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন একটি স্বীকৃতি। কিন্তু এই স্বীকৃতি পাওয়াটাই বড় কথা নয়, একে ধরে রাখাটাই বড় কথা। সুতরাং এ কারণে আমাদেরকে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। গত ১৬ বছরে শিক্ষার হাত বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়নি। শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই জায়গায় আমাদেরকে খুবই কঠোর হতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই দেশটাকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধিশালী ও স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে পারব না। তিনি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য স্বদেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করে। তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক প্রোগ্রামের অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রাপ্তিকে চট্টগ্রামবাসীর একটি বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সেই পথেই এগিয়ে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রোগ্রামও অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করবে এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্মানিত অতিথি প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে অ্যাক্রেডিটেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমাদের দেশে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে কয়েকবছর আগে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু একাডেমিক প্রোগ্রামকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করা হয়েছে। এটা এই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণতা। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বাংলাদেশে একমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়ই বেশি সংখ্যক স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক প্রোগ্রামের অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রাপ্ত হয়েছে। এটি খুবই আনন্দের ও গৌরবের। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা যখন উচ্চমানে থাকে, তার গুণগত মান যখন একটি বিশেষ পর্যায়ে থাকে, তখন তাকে যে-স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তা’ই অ্যাক্রেডিটেশন। তিনি অ্যাক্রেডিটেশনের সংজ্ঞা ও প্রক্রিয়া, অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য অনুসরণযোগ্য সরকারি নীতিমালা ও ফ্রেমওয়ার্ক এবং আউটকাম বেইসড কারিকুলাম প্রভৃতি বিষয় ব্যাখ্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামগুলো মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের একাডেমিক মান, পাঠক্রম, গবেষণা কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় এই অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতেও মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা যদি গ্লোবাল র‌্যাংকিং-এ ভালো করতে চাই, তাহলে এই অ্যাক্রেডিটেশন প্রয়োজন। তিনি বলেন, শিক্ষা হচ্ছে তা, যা আমাদের আলোকিত করে। আমরা দুর্নীতিতে প্রচণ্ডভাবে এগিয়ে রয়েছি। আমাদের দেশে মূল্যবোধের অবক্ষয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মানে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বেশ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা খুঁজে বের করে দূর করতে হবে। তিনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে ঢেলে সাজানো দরকার, সেই ব্যাপারেও কথা বলেন। তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অনেক চ্যালেঞ্জ ও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সবসময়ই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের কাছ থেকে পাঁচটি প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন লাভ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি এ সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও প্রোগ্রামকে অ্যাক্রেডিটেশনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রফেসর ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অনেক পরিশ্রম ও সাধনার পরে পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক প্রোগ্রামের অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পেয়েছে। সুতরাং আজকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অত্যন্ত আনন্দের দিন। এই অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামগুলোর শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক সভায় সনদগুলো বিতরণ করা হয়। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সনদগুলো গ্রহণ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এসসি. ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের অনুকূলে একটি কনফিডেন্স সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়।
অ্যাক্রেডিটেশন ফেস্ট-এ চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ও বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাননীয় সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সহযোগী ডিন, সহকারী ডিন, একাডেমিক বিভাগগুলোর চেয়ারম্যান-কোঅর্ডিনেটর-শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তা ও অ্যালামনাইবৃন্দ।  

Latest News

Designed and Developed By Premier University Software Section (IT)
Copyright © 2024 Premier University IT. All rights reserved.